Shop

Home ইসলামিক বই মাযহাব- অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত

মাযহাব- অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত

Description

মাযহাব- অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত
লেখক : ড. আবু আমীনাহ বিলাল ফিলিপস
প্রকাশনী : সিয়ান পাবলিকেশন লিমিটেড
মুদ্রণ : দ্বিতীয় মুদ্রণ
পৃষ্ঠা : ২৩২

প্রচ্ছদ মূল্য : ৪৫০ টাকা
অামাদের নিকট পাচ্ছেন মাত্র ৩১৫ টাকায়।

==============================
বর্তমানে ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিমদের মাঝে অনৈক্যের মূল যে কারণগুলো রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও বড় কারণ হলো দুটি। ১. ফেরকা বা তরিকাগত সমস্যা ২. মাযহাব যদিও এটা আমার নিজস্ব চিন্তাধারা। রাজনৈতিক কারণ এ দুটোর মতো এত ভয়াবহ রূপ নিতে পারে নি।

মাযহাবী দ্বন্দ নিয়ে এ পর্যন্ত বহু বই লিখা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বই বাংলায়ও আছে। অন্যান্য ভাষায় বিশেষ করে উর্দূ ভাষায় আরও বেশি রয়েছে। মাযহাবের পক্ষে একদল কলম ধরেছে তো অন্যদল মাযহাবের চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করে ছেড়েছেন। উভয়টিই অত্যন্ত দুঃখজনক।

ছোটবেলা থেকেই ক্লাসের শিক্ষকবৃন্দকে বিভিন্ন রকম প্রশ্ন করতাম। আমার কোন কোন শিক্ষক এমনকি স্বজন যারা বড় আলেম, তারাও বলব যে কোন একটা মাযহাব নামা ওয়াজীব। যা সত্যিই দুঃখজনক। পরিভাষাটিকে একটু পরিবর্তন করে বলা উচিৎ।

যাই হোক, ড. আবু আমিনাহ বিলাল ফিলিপস এর The Evolution of FIQH যার বাংলা অনুবাদ “মাযহাব- অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত সত্যিই আমার এই বিষয়ে জ্ঞানক্ষুধা অনেকটাই নিবৃত করেছে। বিশেষভাবে মাযহাবী বিতর্ক থেকে নিজেকে দূরে রেখে অন্যদেরকেও এ থেকে দূরে রাখার প্রয়াস চালাতে পারব বলে বিশ্বাস জন্মেছে এই বইটি পড়ার পর।

আলোচ্য বিষয় :
সুস্পষ্টভাবেই বইয়ের নাম দেখে আলোচ্য বিষয় বুঝা যায়। তবুও এই বইয়ে আপনি পাবেন- কুরআনের আইন প্রণয়ন পদ্ধতি, বিষয়বস্তু, ইসলামী আইনের উৎস, ব্যক্তি পর্যায়ে ইজতিহাদ, মাযহাব নির্মান, মাযহাবের বিকাশ, মতপার্থক্যের কারণ, মাযহাব সুসংহত করা, কিছু সমস্যা, অন্ধ তাকলীদ সংক্রান্ত আলোচনা মতপার্থক্য নিয়ে আলোচনা সর্বোপরি একটি সুন্দর উপাদেয়।
এখানে আপনি পাবেন নয়টি মাযহাব নিয়ে ব্যপক আলোচনা। মাযহাবগুলো হলো-
১) হানাফী ২) আওযাঈ ৩) মালিকি ৪) যাইদি ৫) লাইসি সাওরী ৬) শাফিঈ ৭) হানবালি ৮) জাহিরি ৯) জারীরি

মাযহাব এর বিকাশ ও ইমামগণের তাকওয়া
বইটি পড়লে তাদের ইলমী সাধনা সম্পর্কে ধারণা পাবেন। ধারণা পাবেন কিভাবে মাযহাবগুলোর তৈরি হয়েছে। কিভাবে কয়েকটি মাযহাব বিলুপ্ত হয়েছে। বিশেষভাবে জানতে পারবেন ইমামগণের তাকওয়া কত উঁচু পর্যায়ের ছিল। কত অহংকারমুক্ত ছিল তাদের জীবন।
মাযাহবগুলোর দুর্বলতা ও দালিলিক ভিত্তি কিভাবে গ্রহণ করেছে সে বিষয়েও জানতে পারবেন। কিভাবে একটি সহিহ হাদীসকে তারা অনুসরণ করেছে জানতে পারবেন।
কোন অঞ্চলে কোন মাযহাবের বেশি অনুসারী রয়েছে তাও জানতে পারবেন। কিভাবে ইজমা ও কিয়াস তথা ইজতিহাদের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে জানতে পারবেন। রাষ্ট্রীয় সম্মান ও চাকুরী তাদের জ্ঞান সাধনার নিকটে কিভাবে তুচ্ছভরে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে ইমামগণের নিকট তাও জানতে পারবেন।

অধ্যায় ভিত্তিক আলোচনা
প্রথম অধ্যায় : এ অধ্যায়ে আইন ও প্রণয়ন সংক্রান্ত আলোচনা রয়েছে।
দ্বিতীয় অধ্যায় : এই অধ্যায়ে মাযহাব প্রতিষ্ঠার কারণ, কিভাবে প্রতিষ্ঠা হয়েছে, সাহাবীগণের ইজতিহাদ নিয়ে আলোচিত হয়েছে।
তৃতীয় অধ্যায় : মাযহাবের নির্মাণ সংক্রান্ত আলোচনা রয়েছে। যুগ ভিত্তিক ফিকহের আলোচনা, মতোবিরোধের কারণ ও ফিক্হ সংকলন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চতুর্থ অধ্যায় : এই অধ্যায়ে ফিক্হ শাস্ত্রের ক্রমবিকাশ ইমামগণের যুগ ও পরবর্তী যুগ নিয়ে আলোচিত হয়েছে।
পঞ্চম অধ্যায় : নয়টি মাযহাব এর বৈশিষ্ট্য, বিলুপ্তি ও প্রতিষ্ঠা নিয়ে আলোচিত হয়েছে।
ষষ্ঠ অধ্যায় : মতপার্থক্যের কারণ সুনিপুনভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
সপ্তম অধ্যায় : মাযহাব সুসংহত ও ফিক্হ সংকলণ নিয়ে আলোচিত হয়েছে।
অষ্টম অধ্যায় : বন্ধ্যাত্ব ও অবনতি শিরোনামে তাকলীদ এর কারণ ও প্রয়োজনীয়তা আবার এর সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এই অধ্যায়ে।
নবম অধ্যায় : ইমাম ও তাকলীদ শিরোনামে এই অধ্যায়ে কিছু ইমামের নিজস্ব তাকলীদ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
দশম অধ্যায় : উম্মাহর মতপার্থক্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। যা রহমতস্বরূপ!
একাদশ অধ্যায় : উপসংহারের মাধ্যমে কিছু প্রস্তাবনা করা হয়েছে। বিশেষভাবে একক একটি মাযহাব এবং আলেমগণের মাঝে যে বিশাল মতপার্থক্য রয়েছে তা দূর করার প্রস্তাবনা করা হয়েছে।
পরিশিষ্ট দিয়ে বইটি শেষ করা হয়েছে।

বিশেষ বৈশিষ্ট্য
সিয়ান পাবলিকেশন এর বইয়ের আলাদা একটা বৈশিষ্ট্য থাকেই। এই বইটিও তার ব্যতিক্রম নয়। কাগজগুলো উন্নতমানের। ভুল পাইনাই একটাও। বিশেষভাবে আরবী বর্ণের প্রতিবর্ণ পড়ার সুবিধার্থে এবং আরবী বর্ণের উচ্চারণ ঠিক রাখতে একটি “প্রতিবর্ণীকরণ তালিকা” দেয়া হয়েছে।
মহা-আশ্চর্যের বিষয় হলো- আরবী বর্ণগুলোর প্র্রত্যেকটিকে আলাদা বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে আন্ডারলাইন দিয়ে সঠিক উচ্চারণ দেয়ার চেষ্টা করেছে। এছাড়াও পরিশিষ্টাংশে শব্দ বিশ্লেষণ পর্বে অনেক আরবী পরিভাষার ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। যার সংখ্যা প্রায় ৭৪ টি।

সমস্যা সমূহ
সর্বোপরি বইটির মান খুবই উন্নত। তবে একটি জায়গায় আমার বেশ বেখাপ্পা লেগেছে। সেটা হলো পেইজ সেটিং!! দেখা গেছে একটিমাত্র লাইনের জন্য কোন একটি বিষয় অন্য পৃষ্ঠায় চলে গেছে।
বিষয়টা যদি সিয়ান পরবর্তী বইগুলোতে খেয়াল রাখে তাহলে ভাল হয়।

মন্তব্য :
বর্তমানে আমাদের সমাজে যেই আলেমগণ মাযহাব নিয়ে কাঁদা ছোড়াছুড়ি করছেন, তারা যে কতখানি ক্ষতির মধ্যে আছেন ভাবলেও ভয়ে আত্মা কেঁপে উঠে।
আল্লাহ বলেন- فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَن تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
অর্থ : অতএব যারা তাঁর (রাসূল সা.) আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা এ বিষয়ে সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদেরকে স্পর্শ করবে অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করবে।
এই বিষয়টি মনে রাখা উচিৎ যে, রাসূল সা. এর কোন আদেশই অমান্য করা সুযোগ নাই। যারা এটা করে একটা মানে আরেকটাকে প্রত্যাখ্যান করে তাদের জন্য কষ্ট হয়।
وَأَطِيعُواْ اللّهَ وَرَسُولَهُ وَلاَ تَنَازَعُواْ فَتَفْشَلُواْ وَتَذْهَبَ رِيحُكُمْ وَاصْبِرُواْ إِنَّ اللّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ
অর্থ : আর আল্লাহ তা’আলার নির্দেশ মান্য কর এবং তাঁর রসূলের। তাছাড়া তোমরা পরস্পরে বিবাদে লিপ্ত হইও না। যদি তা কর, তবে তোমরা কাপুরুষ হয়ে পড়বে এবং তোমাদের প্রভাব চলে যাবে। আর তোমরা ধৈর্য্যধারণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা রয়েছেন ধৈর্য্যশীলদের সাথে।
এ ক্ষেত্রে আমাদের দেশের শায়েখদেরও দুবর্লতা আছে মাযহাবী আলেমদেরও দুর্বলতা আছে। এমন গালিগালাজ তারা করেন যা দেখলে শয়তান খুশি হয়।
অত্যন্ত লজ্জাস্কর ও দুঃখজনক হলো এটা যে- আরবী জ্ঞান সামান্যও নয়, সেও নিজেকে বাংলা কিতাব পড়ে একেকজন মুজতাহিদ বনে যান। অথচ চার মাযহাবের বাইরে কথিত “আহলে হাদীসগণ” কোন মাসআলা দিতে পারেন নাই। যাই বলেন সবই চার মাযহাবের মধ্যে রয়েছে। তাহলে ভাই মাযহাবের বিরোধীতা কেন করেন? আলোচনা সিংহভাগে কেন থাকে মাযহাবের পক্ষে আর বিপক্ষে?

বইটি পড়ুন। মাযহাবী ভাইয়েরা পড়ুন। অন্যকে অযথা দোষারোপ করা থেকে বিরত থাকুন। বুজুর্গানে দ্বীন, উস্তাদ, অমুক হুজুরের নিকট শুনেছি এই চিন্তা থেকে দূরে থাকুন। জানুন। অন্যদের সম্মান দিতে শিখুন। আর যারা নিজেকে মনে মনে মুজতাহিদ মনে করে অন্যকে নিজের অজান্তে তাকলীদ করে নিজেকে “লা মাজহাবী” বলেন বা তাদের আত্মতৃপ্তির ভাষায় “সহীহ” দাবীদার তারাও পড়েন। বেশি বেশি পড়েন। পড়লে অহংকার ধুলোয় মিশে যাবে। অন্যরাও যে গাইরে সহিহ না সেটা বুঝতে পারবেন।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন। সঠিক ইলম অর্জন করার তৌফিক দান করুন।

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “মাযহাব- অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত”

Your email address will not be published. Required fields are marked *