Sale!

কেয়ামত

৳ 440.00 ৳ 308.00

Description

বইয়ের নাম  

কেয়ামত

লেখক
অনুবাদক
প্রকাশনী
পৃষ্ঠা সংখ্যা  

৩৯৯

দেশ বাংলাদেশ
ভাষা বাংলা

পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীরা কাঁপতে কাঁপতে প্রবেশ করে, চোখেমুখে ফুটে ওঠে নার্ভাসনেসের সুস্পষ্ট চিহ্ন, প্রশ্নপত্রের চিন্তা ভাবনার জগতে প্রবেশাধিকার দেয় না অন্য কোনোকিছুকেই, উত্তরগুলো সঠিকভাবে লিখে দিতে পারলেই মনে হয়- ‘আহ! শান্তি’। কিন্তু দুশ্চিন্তা চলে যায় না। গেঁথে যায় মনে, আঘাত করতে থাকে, ফলাফলের অশুভ ভাবনা ঘুমাতে দেয় না, আবার শুভ আকাঙ্ক্ষা মনকে উতলা করে তোলে- ‘কবে আসবে সেই দিন!’; এ এক বিচিত্র অনুভূতি।

সারাবছর পাঠ্যবইয়ের সংস্পর্শে না আসা ছেলেটাও পরীক্ষার আগের রাতে ‘সিরিয়াস’ হয়ে যায়; এমনটা কেন হয়? কেন ফলাফল প্রকাশের আগের ক’দিন এক ওয়াক্ত সালাতও মিস হয় না? কেন ভালো ফলাফলের ইচ্ছা একজনের পড়াশোনার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়? এসবের পেছনে কাজ করে দু’টি বিষয়- ভয় এবং আশা।

দুঃখের বিষয় হলো, বস্তুগত চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে এই দু’টি বিষয়কে আমরা কাজে লাগালেও ‘নৈতিক চাহিদা’ বা ‘বাস্তবতার’ মুখোমুখি হতে গেলে, ‘ভয় এবং আশা’কে আমরা অবজ্ঞা করতে শুরু করি। ‘জান্নাতের আশা এবং জাহান্নামের ভয়’ আমাদের মধ্যে অনুপস্থিত বিধায় যেকোনো ধরণের পাপকার্যে জড়িয়ে পড়তে আমাদের বেশি সময় নিতে হয় না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কায় প্রথম ইসলামের দাওয়াত দিলেন, তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা ইসলামের বিধিবিধান সমন্বিত আয়াত নাযীল না করে ‘আখিরাত সম্বলিত’ আয়াত নাযীল করেন। কেন? কারণ, একজন মানুষ তখনই নৈতিকতার চরম শীর্ষে উত্তীর্ণ হবে, যখন তার মধ্যে এর জন্য ‘ভয় এবং আশা’ কাজ করবে। ঠিক একজন পরীক্ষার্থীর মতো, সে ভালো ফলাফলের আশায় এবং খারাপ ফলাফলের ভয়ে সর্বদা চিন্তিত থাকে; পড়াশোনায় মনোযোগী হয়। আমাদের জীবনটাও একটি পরীক্ষা। এখানে যার আমল যত ভালো হবে, সে পরকালে তত বেশি পুরষ্কৃত হবে। খারাপ আমলের পরিমাণ বেশি হলে সেই অনুযায়ী শাস্তি পাবে। এই বিষয়গুলো আমরা প্রায় সময়ই শুনি, তবুও আমাদের ভেতরে কোনো নাড়া দেয় না; কেন? কারণ আমাদের ঈমান একেবারে দুর্বল, খুবই দুর্বল। তাই, এই বিষয়গুলো আমাদের অন্তরের অন্তঃস্থলে তাজা করে তুলতে হবে। ‘জান্নাত-জাহান্নাম’ শব্দ দু’টিকে অনুভব করে কাঁপতে হবে, চোখ দিয়ে পানি বের হতে হবে। তাছাড়া, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন-
“কিয়ামত আসন্ন হয়েছে..”
[সূরা ক্বামার, আয়াত: ১]


হয়ত মনে মনে ভাবছেন “একী বলে! কিয়ামত আসতে তো বহু দেরী! কতো কিছু বাকি!”। সত্যি বলতে, আমাদের অজ্ঞতার কারণে আমরা এমনটা ভেবে বসে আছি। অথচ উলামায়ে কেরাম বলে দিয়েছেন যে, কিয়ামতের অধিকাংশ নিদর্শনই প্রকাশ পেয়ে গেছে। কিন্তু আমরা এগুলো সম্বন্ধে বেখবর। আমরা খেলাধুলায় মত্ত কিংবা দুনিয়া পূজায় ব্যস্ত। তবে, সময় এখনো আছে। আমাদের সম্মানিত আলিমদের বইপুস্তক এখনো আমাদের মধ্যে বিদ্যমান, আলহামদুলিল্লাহ! আর ‘কেয়ামত’ সম্পর্কিত পড়াশোনার জন্যে আপনার প্রথম স্টেপ হতে পারে এই বইটি। যেটির নামই হলো- ‘কেয়ামত’।

দেখতেই পাচ্ছেন, বইটির প্রচ্ছদে ‘কেয়ামতের’ বিভীষিকা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। বইটি ‘একটিমাত্র’ কোনো বই নয়। মোট নয়টি পুস্তকের সমন্বয়ে হয়েছে এই বই। প্রতিটি পুস্তক’ই স্বনামধন্য আলিমদের হাতে লিখা।

প্রথম পুস্তকটি একটি ভ্রমণ। পরকালের পথে এক চাঞ্চল্যকর ভ্রমণ। লিখেছেন- হযরত মাওলানা শাহ রফীউদ্দীন রহ.। কেয়ামতের ছোটোবড়ো আলামত থেকে নিয়ে জান্নাত-জাহান্নাম পর্যন্ত সহজ ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে। এই অংশের বিশেষত্ব হলো, এখানে জটিলতা নেই, নেই একের পর এক হাদীসের রেফারেন্স আর তাহকীক। পাঠক এই অংশে এসে নিজেকে পরকালের এক ভয়ংকর জগতে আবিষ্কার করবেন। মনে হবে যেন, সবকিছু নিজের চোখের সামনে ঘটছে। বইটি পড়তে গিয়ে মনযোগ আপনা আপনি চলে আসবে। কেননা, এখানে আলাদা কোনো বর্ণনা দিয়ে মনোযোগ অন্যদিকে নেয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়নি। সত্যি বলতে, বেশ ভয় পেয়েছি বইটি পড়ে। পাপের সাগরে হাবুডুবু খাওয়া এই আমার কী যে হবে! আল্লাহ যাতে ক্ষমা করেন।

দ্বিতীয় পুস্তকটির নাম হলো- ‘হাদীসের আলোকে কেয়ামতের পূর্বে কী হবে?’। লিখেছেন- মাওলানা মুহাম্মাদ ওয়ালী রাযী রহ.। নাম দেখেই বুঝতে পারছেন, এই বইয়ে বিভিন্ন হাদীসের মাধ্যমে কেয়ামতের পূর্বের আলামত নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ‘কেয়ামতের আলামত বর্ণনা করার গুরুত্ব’ এবং ‘কেয়ামতের আলামত সম্পর্কে জানার গুরুত্ব’ নিয়ে প্রথমেই লেখক দৃষ্টি আকর্ষণ করে হাদীসের আলোকে ব্যাখ্যা করেছেন। এই বইয়ের বিশেষত্ব হলো, এখানে শুধু একের পর এক হাদীস বর্ণনা করেই যাওয়া হয় নি; বরং এখানে প্রতিটি হাদীসের বিস্তারিত ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে পাঠক হাদীসগুলো উপলব্ধি করতে সক্ষম হবেন।

তৃতীয় পুস্তকটি হলো- ‘সহীহ হাদীসের আলোকে ইমাম মাহদী’। লিখেছেন উপমহাদেশের অন্যতম মহান এক আলিম- শাইখুল ইসলাম হযরত মাওলানা হুসাইন আহমাদ মাদানী রহ.। ইদানীং ‘ইমাম মাহদী’ নিয়ে মানুষের আগ্রহ বেড়েই চলেছে। বর্তমানে বিশ্বের পরিস্থিতি মানুষকে ‘আল-মাহদী’র আগমন নিয়ে ভাবতে বাধ্য করছে। অনেকে তো মনে করছেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই চলে আসবেন প্রতিশ্রুত ইমাম মাহদী। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা’ই ভালো জানেন। তাই, এই বিষয় নিয়ে আলোচনা খুব বেশি প্রয়োজন। সহীহ হাদীসের আলোকে সেই মাহদী নিয়েই শাইখ তাঁর এই বইয়ে আলোচনা করেছেন। অনেকেই জিজ্ঞেস করেন ‘ইমাম মাহদী নিয়ে কিভাবে জানবো?’। তাদের জন্য এই বইটি উপকারী হতে পারে।

চতুর্থ পুস্তকটি হলো- ‘ইয়াজুজ-মাজুজ ও যুলকারনাইনের প্রাচীর’। লিখেছেন- মুফতী মুহাম্মাদ শফী রহ.। ইয়াজুজ-মাজুজ সংক্রান্ত আয়াত এবং হাদীস একত্র করে এখানে সুন্দর আলোচনা করা হয়েছে। ইয়াজুজ-মাজুজের আক্বীদা জানা যাবে এই বইটি পড়লে। তাছাড়া, ইয়াজুজ-মাজুজের আত্মপ্রকাশ ও যুলকারনাইনের প্রাচীর নিয়ে ঐতিহাসিকদের মতামত অনুযায়ী আলোচনা করা হয়েছে। ‘যুলকারনাইনের প্রাচীর কি এখনো বিদ্যমান?’ শিরোনামের আলোচনাটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি রহ. এর গবেষণাটি এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। জানতে হলে, পড়ুন এই গ্রন্থটি।

পঞ্চম পুস্তকটি হলো- ‘হযরত ঈসা আ. এর পুনরাগমনের আকীদা’। লিখেছেন- হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ হাফিযাহুল্লাহ। ঈসা আলাইহিস সালাম এর পুনরাগমনের আকীদা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। অনেক মুসলিমই এই বিষয় নিয়ে জানেনা। ‘মডার্ন মুসলিম’ টাইপ একধরণের মানুষ তো ঈসা ইবন মারিয়াম আ. এর পৃথিবীতে পুনরায় আগমনের বিষয়টাকে বিশ্বাসই করতে চান না। অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাঁর পবিত্র কালামে এই বিষয়কে কিয়ামতের আলামত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই বইয়ে ঈসা আ. এর পুনরাগমন সম্পর্কিত তথ্যগুলো মোটামোটি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

ষষ্ঠ পুস্তকটি হলো- ‘হাদীসের আলোকে দাজ্জালি ফেতনা’। লিখেছেন- হযরত মাওলানা বদরে আলম মুহাজিরে মাদানী রহ.। পৃথিবীর বুকে সবচে’ বড়ো ফেতনা হলো দাজ্জালের ফেতনা। তাই এসম্পর্কিত আলোচনা খুবই জরুরী। প্রত্যেক নবীই দাজ্জালের ব্যাপারে তাঁদের উম্মতকে সতর্ক করেছেন। আর আজ দাজ্জাল বিষয়ক আলোচনা হয় না বললেই চলে। ওয়াজ-মাহফিলে কিংবা বইয়ের পাতায় দাজ্জালের ভয়ংকর ফিতনা নিয়ে খুব অল্পই গুরুত্বারোপ করা হয়। বর্তমান প্রজন্মের মাতাপিতা-ও তাদের সন্তানসন্ততি-কে দাজ্জাল সম্পর্কে সচেতন করছেন না। অপরদিকে, আরেকটি দল দাজ্জালকে ‘আধুনিক সভ্যতা’ বা ‘মিডিয়া’ নাম দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে চলেছে। তাই, এই নিয়ে আলোচনা করা অতীব প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক্ষেত্রে এই গ্রন্থটি দাজ্জাল বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে আমাদের সাহায্য করেছে, আলহামদুলিল্লাহ! দাজ্জালি ফিতনা কী এবং কেমন- এ নিয়ে সুন্দর আলোচনা করা হয়েছে।

সপ্তম পুস্তকটি হলো- ‘হাদীসের দর্পণে বর্তমান যুগ’। লিখেছেন- হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ইউসুফ লুধায়নবী রহ.। সুবহানাল্লাহ! এই বইটি পড়লে আমাদের চোখ খুলে যাবে। কত ভয়াবহ এক যুগে আমরা অবস্থান করছি, সেই বিষয়টি অনুধাবন করা যাবে। বর্তমান সময়ে প্রকাশিত কিয়ামতের সবগুলো আলামত নিয়ে হাদীসের রেফারেন্সসহ আলোচনা করা হয়েছে। আমরা যে মহাপ্রলয়ের একেবারে দোরগোড়ায় অবস্থান করছি, সেদিকে দৃষ্টিপাত করা হয়েছে।

অষ্টম পুস্তকটি হলো- ‘কেয়ামত সম্পর্কে আল্লামা ইবনে আরাবী রহ. এর ভবিষ্যদ্বাণী’। লিখার মূল আরবি- আল্লামা মুহিউদ্দীন ইবনে আরাবী রহ. এর। ব্যাখ্যাসহ উর্দু অনুবাদ করেছেন- মাওলানা মুহাম্মাদ ওয়ালী রাযী রহ.। আল্লামা ইবনে আরাবী রাহিমাহুল্লাহ এর কিয়ামত সম্পর্কিত ২০টি ভবিষ্যদ্বাণী এবং সেগুলোর ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে এই বইয়ে।

নবম পুস্তকটি হলো- ‘মাওলানা শাহ নেয়ামতুল্লাহ রহ. এর ভবিষ্যদ্বাণী’। এটি ফার্সি ভাষায় রচিত একটি শের। আজ থেকে প্রায় সাড়ে আটশ বছর পূর্বে শাহ নেয়ামতুল্লাহ রহ. তাঁর বিখ্যাত কাসীদা রচনা করেন। অনেক আল্লাহর অলী ও বুযুর্গ আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ জ্ঞান লাভ করে থাকেন, যাকে ইলহাম বা ইলমে লাদুন্নী বলা হয়। শাহ নেয়ামতুল্লাহ রহ. খোদাপ্রদত্ত সেই ইলহাম দ্বারা ফার্সি ভাষায় এ সকল কাসীদা (দীর্ঘ কবিতা) রচনা করেন। সেই কবিতারই অনুবাদ এবং ছোটোখাটো ব্যাখ্যা করা হয়েছে এই বইয়ে।

অনেকগুলো বইয়ের অনুবাদ সম্পন্ন করা কম কঠিন কাজ নয়। মুহাম্মাদ রাইহান খাইরুল্লাহ সাহেব অত্যন্ত যত্নের সাথে এই গ্রন্থগুলোর অনুবাদ করে আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাঁকে এর জন্য উত্তম জাযা দান করুন এবং আমাদেরকেও ‘কেয়ামত’ সম্পর্কিত জ্ঞান লাভ করে সেই অনুযায়ী নিজেদের সতর্ক হওয়ার তাওফিক দান করুন।

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “কেয়ামত”

Your email address will not be published. Required fields are marked *